Breaking News

কাঞ্চনজঙ্ঘা ২: রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

কাঞ্চনজঙ্ঘা ২

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন 



YouTube

কুঞ্জ্বাটিকা মাত্র নাই গগন-মন্ডুলে,
এ-সময় কাদম্বিনী কোথা গেছে চলে?
পেয়ে দিব্য অবসর মেঘমুক্ত দিবাকর
সগর্বে আসীন হয়ে সুনীল অন্বরে
ছাড়াইছে হাসি হাসি উজ্জ্বল কিরণরাশি,
ভাসাইছে জ্যেতিঃধরে বিশ্ব-চরাচরে।
পেয়ে সে প্রখর কর হাস্যময় চরাচর
কিরণ-ঝলকে যেন হাসিছে পুলক
জীবজন্তু, নর, দেব ভূলোকে দ্যুলোকে।
এদিকে একটি দু'টি বনফুল আছে ফুটি,
ওদিকে চায়ের ফুল মাধুরী ছড়ায়।
বহে মৃদু সমীরণ করে স্নিগ্ধ প্রাণ মন,
বসন্তের গন্ধ যেন তাহে পাওয়া যায়!
সাগর-লহরী-প্রায় স্তরে স্তরে শোভা পায়
ভূধর-তরঙ্গমালা ত্রিদিকে বিস্তৃত,
কেবল দক্ষিণ দেশে প্রায় অপরূপ বেশে
হরিৎ প্রান্তরখানি রয়েছে নিদ্রিত।
পূর্বের পর্বতখানি আপনারে শ্রেষ্ঠ জানি
গৌরব-গরবে যেন চুম্বিছে গগন!
পশ্চিমের উপত্যকা দাঁড়ায়ে রয়েছে একা
বুকে ল'য়ে গোটা কত সুরম্য ভবন।
ওকি ও অনেক দূরে উত্তর-গিরির চূড়ে
স্তুপাকার মুক্তা হেন ও কি দেখা যায়?
ও বুঝি কাঞ্চনজঙ্ঘা? তাই ত কাঞ্চনজঙ্ঘা।
কি হেতু 'কাঞ্চন' নাম কে দিল উহার?
ও ত স্বর্ণবর্ণ নয়, মুক্তা-নিভ সমুদয়
ধবল তুষার-স্তম্ভ অতি মনোহর!
মরি! কিবা সমুজ্জ্বল রবি-করে ঝলমল
করে! কত মনোরম প্রাণমুগ্ধকর।
শ্যামল ভূজররাজি যেন গো ভূপতি সাজি
কাঞ্চনে মুকুট-রূপে পরেছে মাথায়!
এমন ভূষন পেয়ে গিরিরাজ ধন্য হয়ে
প্রানমিছে নতশিরে কাঞ্চনের পা'য়!
নির্মল তুষার গলে কাঞ্চনের পদতলে
বহিছে নীহার-নদী কত না সুন্দর!
কে যাবে ও-হিমদেশে কে কহিবে দেখে এসে
সে কেমন রম্যস্থান-সৌন্দর্য আকর?
না জানি কতই তাহা বিমল শীতল, আহা!
তাই বলি, ও কাঞ্চন ভূতলে অতুল,
যশস্বী উহারে পেয়ে হল গিরিকুল।
কিন্তু সেই মহাকবি আঁকিয়া এমন ছবি
আপনি অদৃশ্য হয়ে আছেন কোথায়?
পরস্পরে তরুলতা কহিছে তাহারি কথা
যেন বলিতেছে, 'বিভু এই ত হেথায়!'
সেদিকে ফিরালে আঁখি বিস্ময়ে চাহিয়া থাকি
বিভু যেন সরে যান মরীচিকা-প্রায়
কিন্তু সে চরণ-রেখা সর্বত্রই যায় দেখা,
কুসুম সৌরভে তাঁর গন্ধ পাওয়া যায়।
(ভাব-চক্ষু আছে যার দেখিতে কি বাকি তার?
সে মুদ্রিত চক্ষে তাঁর দরশন পায়।)
অস্পুট নীরব স্বরে প্রকৃতি প্রাচার করে,--
শিল্পীর মহিমা শিল্প আপনি জানায়।'


==========



রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এর সবগুলো কবিতা

No comments